মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২১st অক্টোবর ২০১৯

মাননীয় মন্ত্রীর জীবন বৃত্তান্ত

সাধন চন্দ্র মজুমদার, এম.পি

মাননীয় মন্ত্রী

খাদ্য মন্ত্রণালয়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 

সাধন চন্দ্র মজুমদার ১৯৫০ সালের ১৭ জুলাই নওগাঁ জেলার শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত কামিনী কুমার মজুমদার ও মাতা মৃত সাবিত্রী বালা মজুমদার। নয় ভাই-বোনের মধ্যে সাধন চন্দ্র মজুমদার অষ্টম। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালে তিনি তাঁর পিতাকে হারান।

 

তিনি নওগাঁ কেডি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং চৌমুহনী সরকারী ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। তিনি নওগাঁ ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। চৌমুহনী কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগে যোগ দেন। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়ামতপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাথে এবং দেশ পুনর্গঠনে সক্রিয়ভাবে জড়িত হন।

 

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জীবন বাজী রেখে প্রতিবাদে সোচ্চার থেকেছেন সবসময়। তিনি জনগনের ভালবাসার মানুষ। তাই জনগনের অধীর আগ্রহে ১৯৮৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করেন। বিপুল ভোটে হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন সারা দেশে স্বৈরাচার বিরোধী তীব্র আন্দোলন চলছিল। এ সময় তিনি দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে তিনি হাজিনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, দুইবার প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দীর্ঘ দিন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে সফলতার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসা ও কন্সট্রাকশন ব্যবসা (পার্টনারশীপ) এর সাথে জড়িত। 

 

এই বর্ষীয়ান নেতা ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নবম জাতীয় সংসদে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাধন চন্দ্র মজুমদার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। দশম জাতীয় সংসদে তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

তিনি তৃতীয় বারের মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ৭ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত আছেন।  

 

সাধন চন্দ্র মজুমদার নওগাঁ করনেশান হল সোসাইটি, বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য। এছাড়াও তিনি নওগাঁ ব্লাড ব্যাংক, নওগাঁ ডায়েবেটিক সমিতি, নিয়ামতপুর ডিগ্রী কলেজ, পোরশা ডিগ্রী কলেজ, সাপাহার মহিলা ডিগ্রী কলেজ, বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রী কলেজের সভাপতি, নওগাঁ সমন্বয় নাট্যগোষ্ঠী এবং বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষ রাজশাহীর উপদেষ্টা। তিনি ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর সংসদীয় ককাশ গ্রুপের সদস্য ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা।  

 

তিনি এলাকায় মসজিদ, মন্দির নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার সাহায্য, দুস্থদের চিকিৎসা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সরকারের সহযোগিতায় নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার উন্নয়নসহ বহুমুখী উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে মানব সেবা এবং এলাকার উন্নয়নই তাঁর একমাত্র ব্রত। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ জনগনের মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য তার নির্বাচনী এলাকায় - ৩ টি উপজেলা ও ২০ টি ইউনিয়নে নেতা-কর্মীদের সহায়তায় উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোতে পাকা দলীয় অফিস নির্মাণ করেছেন। তিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের অফিস নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

 

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন সেমিনারে থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সেমিনারে রাশিয়া, বেলারুশ, তুরস্ক, নেদারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইতালি, জাপান, ফ্রান্স, জার্মান, ডেনমার্ক ও ভারত সফর করেছেন।

 

সাধন চন্দ্র মজুমদার ১৯৭৪ সালে চন্দনা রাণী মজুমদারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার সহধর্মিনী চন্দনা রানী মজুমদার একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন। ১৯৯৩ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী মারা যান। পরবর্তীতে তিনি আর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক। বড় কন্যা সোমা রাণী পেশায় একজন ব্যাংকার, দ্বিতীয় যমজ কন্যার একজন কাবেরী রাণী মজুমদারও একজন ব্যাংকার, যমজ অন্য আরেক কন্যা কৃষ্ণা রাণী মজুমদার পেশায় সার্জন এবং ছোট কন্যা তৃণা মজুমদার একজন ইঞ্জিনিয়ার।

 

বৃক্ষরোপন, ভ্রমণ, জনসেবা, জনসংযোগ তার প্রিয় শখ। চেয়ারম্যান থাকাকালীন বৃক্ষরোপনে তিনি রাজশাহী বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তার লাগানো তিন কিলোমিটার তালের গাছ আজও মানুষের তাল উৎসবের প্রেরণা যোগায়।

 

 

 

 



Share with :

Facebook Facebook